ঠিকানা:
পশ্চিম বাগিচাগাঁও (হাজী সিরাজুল ইসলাম সড়ক), কুমিল্লা
ইমেইল:
cumillamissionschool2008@gmail.com
ফোন নম্বর:
+৮৮ ০১৮৪৮-৩১৯ ০০৪

স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা শিক্ষার্থীদের জন্য পরিকল্পিত পাঠ্যক্রম

প্রতিষ্ঠানপরিচিতি

কুমিল্লা মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিক অবস্থায় এটি ছিল আধুনিক মানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার প্রচেষ্টা। প্রতিষ্ঠার শুরুতে একক প্রচেষ্টায় শিক্ষক ও পরিচালকদের সমন্বয়ে এর ভিত্তি স্থাপিত হয়।

প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালের দিকে একটি উন্নত পর্যায়ে পৌঁছায়। সে সময় এখানে ছাত্রসংখ্যা ছিল ৬০০ থেকে ৮০০ জনের মধ্যে। আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল বেশ সমৃদ্ধ—তিনটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস ছিল, যেখানে প্রায় ২০০ জন আবাসিক ছাত্র এবং ১০০ জন ছাত্রী থাকতেন। শিক্ষকসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ জন। এই সময়টাকেই প্রতিষ্ঠানের গৌরবোজ্জ্বল ও স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। ভাড়া করা ছাত্রাবাসের ভাঙন, অভিভাবকদের মধ্যে আস্থার সংকট এবং বিভিন্ন অভিযোগের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানের অবস্থার অবনতি ঘটে। ২০২৪ সালের দিকে এসে ছাত্রসংখ্যা ১৯৫-এ নেমে আসে এবং আবাসিক ব্যবস্থা প্রায় বন্ধের পথে চলে যায়।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৪ সাল।

প্রধান শিক্ষকের বার্তা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ,

শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের পাতায় আবদ্ধ থাকার নাম নয়। শিক্ষা হলো চরিত্র গঠনের মন্ত্র, নিজেকে জানার শক্তি এবং অন্যের উপকারে আসার পাথেয়। কুমিল্লা মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই শিক্ষার পথচলায় নিবেদিত এক অঙ্গীকারের নাম।

আমাদের পথচলা ও ঐতিহ্য
২০০৭ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু। স্বল্প সময়ের মধ্যেই কুমিল্লা শহরের শিক্ষাঙ্গনে এটি একটি অনন্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের স্বর্ণালী সময়ে আমাদের ছাত্রসংখ্যা ছিল প্রায় ৮০০ এবং আবাসিক সুবিধায় ছিল ২৫০-এর বেশি শিক্ষার্থী। আমাদের তিনটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস ছিল শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব ও প্রগতির প্রতীক।

সংকট ও উত্তরণ
মহৎ কোনো কাজই মসৃণ পথে চলে না। দীর্ঘ সময়ে আমরা নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি—ভৌত অবকাঠামোগত সমস্যা থেকে শুরু করে আস্থার সংকট। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ রহমত এবং আমাদের দৃঢ় মনোবলে ‘কুমিল্লা মিশন স্কুল’ আজও আপন মহিমায় স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে।

নতুন উদ্যমে আগামী
আমরা এখন এক নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছি। আমাদের দিনরাতের চেষ্টা—আপনাদের আস্থা পুনরায় অর্জন করা, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি শিশুকে নৈতিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার লক্ষ্যে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি:

ডিজিটাল যোগাযোগ: প্রতিটি ঘরে অভিভাবকগণ সরাসরি ক্লাসের কার্যক্রম, উপস্থিতি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারবেন।

আধুনিক ক্লাসরুম: সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ ও প্রজেক্টর নির্ভর স্মার্ট ক্লাসের ব্যবস্থা।

আইটি ল্যাব: আধুনিক আইটি ল্যাব ও অনলাইন টেস্টের সুবিধা।

ধর্মীয় শিক্ষা: কুরআন শিক্ষা ও বিশেষায়িত হিফজ বিভাগ।

দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন (২০৩৪): ২০৩৪ সালের মধ্যে নিজস্ব জমিতে আধুনিক ছাত্রাবাস ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের মহাপরিকল্পনা।

আপনাদের প্রতি আহ্বান
একটি শিশুকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকের যত্ন আর শিক্ষকের নিষ্ঠার সমন্বয় জরুরি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মানসিক বিকাশে আমাদের হাত ধরুন। যেকোনো প্রয়োজনে আমার কার্যালয়ের দরজা আপনাদের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। মতামত দিন, গঠনমূলক সমালোচনা করুন এবং আমাদের পাশে থাকুন।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা আর সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে কোনো লক্ষ্যই অসম্ভব নয়। ইনশাআল্লাহ, কুমিল্লা মিশন স্কুল তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে পাথেয় করে নতুন এক ইতিহাস গড়বে।

জাজাকাল্লাহু খাইরান।

বিনীত,

জোসনা আক্তার

প্রধান শিক্ষক

কুমিল্লা মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যোগাযোগ: প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় (সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা)।

কেন মিশন স্কুল কুমিল্লা?

বিস্তারিত মিশন

কুমিল্লা মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—
১. মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা

আধুনিক প্রযুক্তি ও যুগোপযোগী পাঠক্রমের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা।

২. নৈতিক ও চারিত্রিক বিকাশ

ইসলামী মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলা।

৩. আবাসিক পরিবেশের পুনরুদ্ধার

নিরাপদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল আবাসিক ব্যবস্থা চালু করে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক যত্ন ও মননশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা।

৪. অভিভাবকের আস্থা অর্জন

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্নেহশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি অভিভাবকের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

৫. সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ

মেধা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করে, আর্থিকভাবে দুর্বল হলেও যোগ্য শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সহায়তা প্রদান।

শিক্ষার মূলনীতি

ভিশন

নৈতিকতায় উজ্জ্বল, প্রযুক্তিতে দক্ষ, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

বিস্তারিত ভিশন বিবৃতি

আমরা ২০২৮ সালে ভি.আই.পি ক্যাম্পাস (ভাড়া) ও ২০৩৪ সালের মধ্যে কুমিল্লার প্রাণকেন্দ্রে একটি নিজস্ব, আধুনিক ও সম্পূর্ণ ভি.আই.পি ক্যাম্পাস স্থাপন করতে চাই—যেখানে—

প্রতিটি শিক্ষার্থী পাবে আইটি ল্যাব, প্রজেক্টর ক্লাস ও সিসি ক্যামেরার নিরাপদ ক্লাসরুম।

চালু থাকবে নূরানী কুরআন শিক্ষা ও হিফজ বিভাগ।

অভিভাবকরা পাবেন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সন্তানের ক্লাস, উপস্থিতি ও ফলাফলের রিয়েল-টাইম তথ্য।

প্রতিষ্ঠান হবে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার এক অনন্য মডেল।

মূল্যবোধ

মূল্যবোধ

ব্যাখ্যা

সততা

শৃঙ্খলা

দায়িত্ববোধ

মানবিকতা

উৎকর্ষের আকাঙ্ক্ষা

চিন্তা, কথাবার্তা ও কাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা

সময়ানুবর্তিতা ও নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস

ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা

সবার প্রতি সহানুভূতি, শ্রদ্ধা ও সেবামনোভাব

নিজের সেরাটা দেওয়ার প্রচেষ্টা